Friday, January 27, 2006

হাইপারড্রাইভ-২

১৯৫০ এর দশকে হাইম হাইপারড্রাইভ কনসেপ্ট নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু করেন । মূলত তার প্রচেষ্টা ছিল কীভাবে কোয়াণ্টাম মেকানিক্স এবং আইনস্টাইন-এর সাধারণ আপেক্ষিকতাকে একীভূত করা যায় । কোয়াণ্টাম তত্ত্ব আণবিক পর্যায়ে ব্যাখ্যা দিতে খুবই সফল, অপরদিকে আপেক্ষিক তত্ত্ব খুবই বৃহত্তর পদার্থের মধ্যকার বল ও তাদের মিথষ্ক্রিয়া (সুনির্দিষ্টভাবে বললে অভিকর্ষ বল) ব্যাখ্যা করতে খুবই সফল । সমস্যা হয় যখন স্পেস(স্থান ) এর সাধারণ গঠন কীরকম তা ব্যাখ্যা করার দরকার হয় তখন ।

সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব মোতাবেক স্পেস-টাইম (স্থান-কাল) একটি সক্রিয় এবং একে অপরের সাথে পরিবর্তনীয় কাঠামো । স্পেস-টাইম এর চারটি মাত্রা আছে (তিনটি স্থান এর জন্য এবং চতুর্থটি কাল এর জন্য) - যা বস্তুর আবির্ভাবের সাথে সাথে বেঁকে যেতে পারে । অন্যদিকে কোয়াণ্টাম তত্ত্ব বলে স্থান একটি অপরিবর্তনীয় কাঠামো যা বস্তুকে তার অবস্থানের সুযোগ করে দেয়, অন্যকথায় বস্তুই হচ্ছে স্থান-এর রূপভেদ ।

প্রাথমিকভাবে হাইম চেষ্টা করেন আপেক্ষিকতার সূত্রগুলো কোয়াণ্টাম বলবিজ্ঞানের কাঠামোতে লিখতে গেলে কি হয় সেটা দেখতে । আইনস্টাইন-র কথামতো অভিকর্ষ বলের উত্‍পত্তি হয় স্থান-কালের মাত্রা থেকে এর সাথে একমত হলেও তিনি প্রস্তাব দেন যে মাত্রা শুধু চারটি নয় বরং আটটি যাদের মিথষ্ক্রিয়ায় সব মৌলিক বলের উত্‍পত্তি । পরে অবশ্য তিনি এর থেকে দুটো মাত্রা বাদ দেন ই বিশ্বাস থেকে যে এই দুটো কোনো আলাদা বলের উত্‍পত্তি করে না ।

হাইমের এই ৬ মাত্রার জগতে অবশ্যই অভিকর্ষ আর তড়িত্‍-চুম্বকিয় বল পরস্পর সম্পর্কযুক্ত । এটা অবশ্য আমাদের চতুর্থ মাত্রার জগতেই আমরা লক্ষ্য করি যখন ইলেকট্রনের মত কণার কার্যক্রিয়া ব্যাখ্যা করার দরকার হয় তখন । ইলেকট্রনের ভর এবং চুম্বকত্ত দুইই আছে যার কারনে অভিকর্ষ বলের টানে ইলেকট্রনের যে গতি তৈরি হয় তাইই আবার চৌম্বক ক্ষেত্রের উত্‍পত্তিতে ভূমিকা রাখে । অন্যদিকে একটি তড়িত্‍-চুম্বকিয় ক্ষেত্রের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রন কে সচল করা হলে এটা আসলে এর ভরের সাথে সাথে অভিকর্ষ ক্ষেত্রকেও সরিয়ে নিতে থাকে । কিন্তু চতুর্মাত্রার জগতে এটা জানা আছে যে শুধু তড়িত্‍-চুম্বকিয় ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করেই মাধ্যাকর্ষণ বলের ভূমিকা একদম নিষ্ক্রিয় করে ফেলা সম্ভব না ।

হাইম-এর ৬ মাত্রার জগতে এই প্রতিবন্ধক আর থাকেনা । তাই তিনি বলেন যে অভিকর্ষ কি তড়িত্‍-চুম্বকিয় বলে এবং বিপ্রতীপ পরিবর্তন সম্ভব যাতে একটি ঘূর্ণায়মান তড়িত্‍-চুম্বকিয় ক্ষেত্রে অভিকর্ষ বল একেবারে শূন্যতে নামিয়ে আনা যাবে এবং চাইলে মহাকাশযানকে বিনা বাঁধায় মহাশূন্য যাত্রাও করানো যাবে । :D অবশ্যই এর জন্য আপনাকে যথেষ্ট শক্তিশালী তড়িত্‍-চুম্বকিয় ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে, আশা করা যায় এটা করতে রকেট ফুয়েল এর চেয়ে অনেক কমই খরচ হবে ;) আর হুঁউউউউশ, হা মহাশুন্য পারি দিতে সময় যে লাগবে না সেটা তো উপরি পাওনা হবে কি বলেন ?

1 Comments:

At 5:01 AM, Blogger সোহাগ ভূইঁয়া said...

ভালো লিখেছেন। এই ব্লগটিও একটু চেখে দেখতে পারেন: http://online-journalism.blogspot.com/

 

Post a Comment

<< Home